বিগত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি পোশাক আমদানিতে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক হলেও তা এখনো ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও পাকিস্তানের তুলনায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে। এ সময়ে বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানি বেড়েছে ৩৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ। বিপরীতে প্রতিযোগী দেশ ভিয়েতনাম, পাকিস্তান ও কম্বোডিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি বেড়েছে কয়েক গুণ। মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের (ওটিইএক্সএ) আমদানি প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
২০১৫ সালে বাংলাদেশ থেকে ৫৪০ কোটি ৪৪ লাখ ৯০ হাজার ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ১০ বছর পর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩৪ কোটি ২৮ লাখ ৫০ হাজার ডলারে। এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ। বিপরীতে একই সময়ে ভিয়েতনাম থেকে ৪১ দশমিক ৭৮ ও পাকিস্তান থেকে ৫০ দশমিক ৯৭ শতাংশ আমদানি বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে কম্বোডিয়ার ক্ষেত্রে। দেশটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি পোশাক আমদানি বেড়েছে ৫৩ দশমিক ২১ শতাংশ। কম্বোডিয়া ২০১৫ সালে ২৪৮ কোটি ১২ লাখ ৮০ হাজার ডলারের পোশাক যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি করলেও ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮০ কোটি ১৬ লাখ ৩০ হাজার ডলারে।
এদিকে বাংলাদেশের প্রতিবেশী ভারতের প্রবৃদ্ধি ২৮ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ হলেও যুক্তরাষ্ট্রে ইন্দোনেশিয়ার পোশাক রফতানি কমেছে। এ ১০ বছরে দেশটির প্রবৃদ্ধি কমেছে ১৩ দশমিক ৯০ শতাংশ। মেক্সিকো ও দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থাও একই; দেশ দুটির প্রবৃদ্ধি কমেছে যথাক্রমে ২৬ দশমিক ৩১ শতাংশ ও ৩০ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
এদিকে বিগত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানির পরিমাণও কমেছে। ২০১৫ সালে যেখানে আমদানির পরিমাণ ছিল ৮ হাজার ৫১৫ কোটি ১২ লাখ ২০ হাজার ডলার, ২০২৪ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৯২৫ কোটি ৭৫ লাখ ৭০ হাজার ডলারে। অর্থাৎ এ ১০ বছরে দেশটির পোশাক আমদানি কমেছে ৬ দশমিক ৯২ শতাংশ। একই সময়ে গড়ে প্রতি ইউনিট পোশাকের (প্রতি বর্গমিটার) মূল্য বিশ্বব্যাপী কমেছে ১ দশমিক ৭১ শতাংশ হারে। তবে ইউনিটপ্রতি মূল্য সবচেয়ে বেশি কমেছে চীনের। দেশটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি পোশাক আমদানি ইউনিটপ্রতি কমেছে ৩৩ দশমিক ৮০ শতাংশ। ভারতের কমেছে ৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ। যদিও বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের দাম বেড়েছে। এ সময়ে এ দেশ থেকে আমদানীকৃত তৈরি পোশাকের ইউনিটপ্রতি মূল্য বেড়েছে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। ভিয়েতনামের বেড়েছে ৬ দশমিক ৬৪ ও ইন্দোনেশিয়ার ৭ দশমিক ৩৮ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কম্বোডিয়ার। দেশটির পোশাকের ইউনিটপ্রতি দাম বেড়েছে ৩৮ দশমিক ৩১ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রফতানির প্রবৃদ্ধি হলেও প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় পিছিয়ে থাকা প্রসঙ্গে বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক এবং বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বাংলাদেশের রফতানি বৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি হবে পণ্যে মূল্য সংযোজন। কেবল পরিমাণ বাড়িয়ে নয়, বরং পণ্যের মান ও বৈচিত্র্য বাড়িয়ে রয়তানি আয় বৃদ্ধি করা সম্ভব। যদি বেশি আয় করতে হয়, তবে কম দামে বেশি পরিমাণ রফতানির পরিবর্তে উচ্চমূল্যের মূল্য সংযোজিত পণ্যে জোর দিতে হবে।’ তখনই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে টেকসই প্রবৃদ্ধি ও প্রতিযোগিতা ধরে রাখা সম্ভব হবে বলে দাবি করেন তিনি।